চালে চালবাজি, ডিমের ডিগবাজি, মুরগির চোখ রাঙানি আর তেল নিয়ে তেলবাজি কিংবা চিনি দাম বাড়াসহ নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে সিলেটে বছরজুড়েই ছিনিমিনি খেলা চলেছে। সিলেট মহানগর কিংবা উপজেলা ও স্থানীয় বাজারগুলোতে অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি হয়েছে ধাপে ধাপে।


এছাড়াও যাতায়াত, বাসাভাড়া বৃদ্ধিতে সংসারের হিসাব মেলাতে হিমশিম খেয়েছেন সিলেটের মানুষ।



মাস কিংবা সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচ, চিনি, আলু, চাল, গরু ও মুরগির মাংস, তেল, ডিম, ফল থেকে শুরু করে প্রায় সবকটি নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে হুহু করে। অল্প কিছু অভিযান পরিচালনা করলেও মোটাদাগে উদাসীন ছিলো ভোক্তা অধিদপ্তর।


তবে সিলেট জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, লোকবলসহ নানা সংকটের থাকলেও তারা নিয়মিত বাজারগুলোতে অভিযান পরিচালনা করেছে। অনেক জায়গায় করা হয়েছে জরিমানাও।


বেসরকারি চাকরিজীবী জুবায়ের আহমদ। থাকেন সিলেটের মদিনামার্কেট এলাকায় একটি ভাড়া বাসায়। দুই ছেলে আর স্ত্রীর সংসার। বাবা-মা থাকেন গ্রামে। কিন্তু নিত্যপণ্যের লাগামহীন দাম ও যাতায়াতের ভাড়া বৃদ্ধিসহ নানা যাতাকলে পুরো বছরই টানাপোড়েনে পার করেছেন।


জুবায়ের আহমদ সিলেটভিউ-কে বলেন, এক কেজি মুরগি সঙ্গে আলু, পেঁয়াজ ও তৈল কিনলেই ৫০০-৬০০ টাকা শেষ হয়ে যায়। চাল-ডাল সব কিছু তো রয়েই গেল। সন্তানদের খেলাপড়ার খরচ আর গ্রামে থাকা বাবা-মায়ের কথা চিন্তা করলে তো কূল পাই না। লড়াই করে একটা বছর পার করলাম। এখন তো নতুন বছর আসবে। দেখি পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।


মহানগরের শিবগঞ্জ এলাকার রিকশা চালক জমির উদ্দিনের বাড়ি হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলায়। সিলেট শহরে এসেছেন চলতি বছরের জানুয়ারির শেষের দিকে। স্ত্রী,  এক ছেলে ও দুই মেয়েসহ পাঁচ জনের সংসার তার।


তিনি জানান, নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক দামের কারণে গত একটা বছর চলতে অনেক কষ্ট হয়েছে। তবুও পরিশ্রম করে সংসার চালিয়েছি। কিছু করার নাই!


সিলেটের তরুণ লেখক ও সংগঠক জেনারুল ইসলাম সিলেটভিউ-কে জানান, ২০২৪ সালের বড় একটা সময় বন্যায় বিপর্যস্ত ছিলো সিলেট। এই অবস্থায় বাজারে তেল-তরকারি ও সবজির যে দাম ছিলো তার জন্য মানুষের মধ্যে হাহাকার খুব বেশী ছিলো। একবার যে পণ্যের দাম বাড়ে তা আর কমে না। এই অবস্থা চলতে থাকলে সিলেটের মানুষ দ্রব্যমূল্যের দামে নিষ্পেষিত হয়ে যাবে। আমরা আশা রাখতে চাই নতুন বছরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাজার মনিটরিং করবে নিয়মিত।


 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম / মাহি /এসডি-৯৬৭২