ছবি : সিলেটভিউ

বন্যা, কালবৈশাখি ও নজিরবিহীন শিলাবৃষ্টিসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ বছরজুড়ে ভুগিয়েছে সিলেটবাসীকে। বিশেষ করে বন্যা,  তাপপ্রবাহ, ভূমিকম্প, পর্যটন শিল্পে ধস ও প্রবল বৃষ্টিপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগকে মোকাবিলা করতে হয়েছে এই অঞ্চলের মানুষকে। এপ্রল থেকে শুরু করে আগস্ট এই পাঁচ মাসে দফায় দফায় বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে সিলেট বিভাগ। আক্রান্ত হন লাখ লাখ মানুষ। এতে ক্ষতি হয় কয়েক শত কোটি টাকা।

 


আকস্মিক বন্যায় ভাসে সিলেট
২০২৪ এর এপ্রিল থেকে শুরু হয় বন্যার আতঙ্ক। বন্যার পুর্বাভাসও দেয় সংশ্লিষ্ট বিভাগ। মে মাসের শেষ সপ্তাহ ও জুন মাসে কয়েক দফা আকস্মিক বন্যার সম্মুখীন হয় সিলেট। মে মাসের শেষে ভারত থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সিলেট জেলার ৫টি উপজেলায় শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়। বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় জেলার ৫ হাজার ৬০১ হেক্টর জমির ফসল।

 

বন্যার কারণে বন্ধ ঘোষণা করা হয় সিলেটের সব পর্যটন কেন্দ্র। পানিবন্দি হয়ে পড়েন ৫ লাখ ৩৩ হাজার মানুষ। চালু করা হয় ৫৪৭টি আশ্রয়কেন্দ্র। প্লাবিত হয় সিলেট শহরও। পাশাপাশি পাহাড়ি ঢলে গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট জকিগঞ্জ ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। ৩০ মে সকাল থেকে জৈন্তাপুর উপজেলার বাংলা বাজার, রংপানি ও বিলাইমারা এলাকায় সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয় এই চার উপজেলায়। জৈন্তাপুর বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। উপজেলার টিলা এলাকা ছাড়া বাকি সব এলাকাই প্লাবিত হয়। কোথাও কোথাও বাড়ির ছাউনি পর্যন্ত পানিতে ডুবে যায়।

 

এদিকে এই বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই জুন মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ভারত থেকে আসা পানিতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয় সিলেট, সুনামগঞ্জ।  সিলেটে বন্যায় আক্রান্তের সংখ্যা দশ লাখ ছাড়িয়ে যায়। সুনামগঞ্জে ১২টি উপজেলায় ১৩০৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়। বন্যায় আক্রান্ত হন প্রায় সাড়ে ৮ লাখ মানুষ। ২৪ হাজার বন্যার্ত মানুষ আশ্রয় নেন বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে ফের বন্যার কবলে পড়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার কয়েক  লাখ মানুষ।

 

দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় সিলেটের পর্যটন শিল্পে ধস
জুলায়ের বন্যায় লন্ডভন্ড হয় সিলেটের পর্যটন। মৌসুমে তিন দফা ধাক্কা লাগে এই খাতে। তখন পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছিলেন, ৫শ’ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে পর্যটন খাতের ক্ষতি। রীতিমতো ধস নামে সিলেটের পর্যটন শিল্পে।

 

সিলেট চেম্বারের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, পর্যটনের সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত। এর সঙ্গে পরিবহন, রেস্টুরেন্ট, শপিং মল ও নৌকার বিষয়টি জড়িত। অর্থাৎ পর্যটকরা যেদিকে যাবেন, সেদিকে আর্থিক বিষয় সম্পৃক্ত।

 

নজিরবিহীন শিলাবৃষ্টি, কালবৈশাখি ও তাপদাহ
২০২৪ এর মার্চ মাস থেকেই সিলেটে বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় মৌসুমি বৃষ্টিপাত। মার্চ মাসের শেষ দিন সিলেটবাসী প্রত্যক্ষ করে নজিরবিহীন শিলাবৃষ্টি। বৃষ্টির সঙ্গে ঝরে পড়া কোনো কোনো বরফখণ্ডের ওজন ছিল দুইশ গ্রামেরও বেশি। সিলেট মহানগরীতে শিলাবৃষ্টির তীব্রতা এত বেশি ছিল যে বরফখণ্ডের আঘাতে ভেঙে যায় গাড়ি, সিএনজি অটোরিকশার উইন্ডশিল্ডের কাঁচ। বরফখণ্ডের আঘাতে আহত হয়ে হাসপাতালেও ভর্তি হন কয়েকজন।

 

সিলেটে রোববার কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে যে আকারের শিলাবৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে আলোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সিলেটের বাসিন্দাদের দাবি এতো বড় আকারের শিলাবৃষ্টি খুব কমই দেখেছেন তারা।

 

প্রতি বছরের এপ্রিল মাসে সাধারণত কালবৈশাখী ঝড় বেশি দেখা গেলেও চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এই প্রবণতা অনেকটা কমই লক্ষ্য করা যায়। ঐ মাসে দেশে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি স্থানে আঘাত হানে কালবৈশাখী ঝড়। ২৯ এপ্রিল হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় আঘাত হানে কালবৈশাখী ঝড়।  নবীগঞ্জে ঝড়ের সঙ্গে হওয়া শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় বোরো ধানের। 

 

এছাড়াও সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে সিলেটজুড়ে তীব্র গরম নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছিলো। সেসময় দাবদাহে পুড়ে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই জনপদ।

 

সিলেটে ভূমিকম্প
চলতি বছরের ২৯ মে সিলেটে ভূকম্পন অনুভূত হয়।  সেদিন সন্ধ্যা ৭টা ১৪ মিনিটের দিকে এ ভূমিকম্প হয়। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল মিয়ানমারে। ২ জুন সিলেটে দুপুর ২টা ৪৪ মিনিটে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম / মাহি