১. লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ইদানিং বাংলাদেশের সরকারি পর্যায়ে কথা হচ্ছে খুব বেশি, কাজ হচ্ছে খুব কম।
২. সময় পেলে খবর বা ইউটিউব খুললেই শুধু কথার ফুলঝরি, কাজের বেলায় কিছুই না।
৩. দেশের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে আগুন, কেউ বলছেন আওয়ামি দোসররা, কেউ বলছেন খোদ দু’একজন উপদেষ্টা। ‘উপদেষ্টা’ বললেও আমি অবাক হব না, কারণ, জনৈক উপদেষ্টা তো শপথের পর পরই আওয়ামি লীগকে দাওয়াতও দিয়েছিলেন দেশে ফিরে দল গোছানোর জন্য।
৪. আগুন দেয়ায় আবার কেউ কেউ নাকি ধরাও খেয়েছেন, সুবিচার বা রায় কার্যকর হয় না কেন?
৫. একটি-দু’টি বিচার বা রায় হলেই দেখা যেত, সব গোমর ফাঁস হয়ে যাচ্ছে।
৬. বিচার ডিল্যাইড, বিচার ডিনাইড।
৭. কেউ বলছেন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, এখন কি ইক্সপিরিমেন্টের সময়, বিশেষ করে দেশের স¦ার্থ যখন “এ্যাট স্টেক”? সুসময়ে/সময়মত ব্রেনটাকে কাজে লাগিয়েন।
৮. শোনা যাচ্ছে, কোন কোন আওয়ামি আমলারা নাকি আগুন দেয়ায় জড়িত, পাকড়াও করা হয়েছে কয়জনকে? একজনের বিচার আরম্ভ হলেই বা শাস্থি দেখলেই দেশের মানুষ বলতেন, সংস্কার আরম্ভ হয়ে গেছে।
৯. আবার, বিচার নাকি শেষ হবে আগামি বছরের ভেতরেই। মানে, লাঠি আনতে অনেতে কিলে শেষ।
১০. শোনা যায়, আওয়ামি লীগ ও আওয়ামি দোসর-সবই নিষিদ্ধ করতে হবে। কখন? দেশ রসাতলে যাওয়ার পর?
১১. শোনেছিলাম, বিগত কোন এক সরকার নাকি ক্ষমতায় এসে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ে পূর্বের সরকারের নিয়োগকৃত প্রায় ৭০০ কর্মকর্ত-কর্মচারীকে ছাঁটাই করেছিল। আপনারা পারেন না কেন? ভয় কোথায়?
১২. আবার শুনছি, বিশেষ একটি ধর্মের মানুষকে উচ্চ-পদ দেয়া যাব না, এটা কোন ধরনের ন্যায়বিচার? কোন ধরনের সমনাধিকার? ভূত লুকিয়ে আছে নিজেদের মধ্যে, বলির পাঠা হবে অন্যজন? এখানে মনে রাখতে হবে, “মানবের সম্মিলিত সহ-অবস্থানের উপরই বিশ^-শান্তি নির্ভর করে”।
১৩. ভূত বের করতে পারবেন না/চিহ্নিত করতে পারবেন না, এটা নিজেদের দুর্বলতা, এ সত্যকে স্বীকার করে নিতে হবে।
১৪. আন্দোলনে ছাত্র-জনতার সাথে সকল রাজনৈতিক দল এক-কাঁধে সম্পৃক্ত ছিল, ১৬ বছর তারা বিভিন্ন সময়ে সর্বশক্তি দিয়ে একা একাই সংগ্রম করেছে। পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার ঢল ঐ সমস্থ আন্দোলনকে সফলতার শিখরে নিয়ে গেছে। সুতরাং কারো অবদানকে খাঁটো করে দেখার সুযোগ নেই।
১৫. ৫ মাসে ৫ টি ভূতও ধরতে পারবেন না, আর শাস্থি দিতে পারবেন না, এটা ক্ষমতাসীনদের চরম দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ।
১৬. চীন-পাকিস্তান-রাশিয়া বা অমুকের সাথে সম্পর্কের উন্ন্য়ন হয়েছে, এটা অভ্যন্তরীন কোন সংস্কার নয়। সুবিচার ও শাস্থি আরম্ভ করে দেখুন - সংস্কার কাকে বলে?
১৭. যে সেক্টরে বা যাকে সন্দেহ হবে, মূহুর্তে তাকে ধরে বিচার ও শাস্থি নিশ্চিৎ করুন, এখানে ধর্ম কোন ব্যপার নয়, দেখুন সুফল কী আসে।
১৮. প্রয়োজনে জেলে পাঠান, ওএসডি করুন, ছাটাই করুন, অব্যাহতি দিন, অগ্রিম পেনশনে পাঠান। শায়েস্তা করার কত পথ আছে, ধর্ম এখানে বিচার্য বিষয় হতে পারে না। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, “বৈচিত্রই সৌন্দর্য”।
১৯. উপরে যতগুলো অপশনের কথা বললাম, যতগুলো সম্ভব, বা সবগুলো, তড়িৎ কার্যকর করুন, নতুবা শুধু শুধু বেশি বেশি কথা বলতে বলতে/আর টকশো করতে করতে আরও নাশকতার জন্য তৈরী থাকুন।
২০. দেশে-বিদেশে বিশ^বিদ্যালয় পর্যায়ে ৪৫ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথাগুলো বলেছি।
লেখক: প্রফেসর ড. মো. আতী উল্লাহ, ইংরেজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা ও ২৪ বছরের বিভাগীয় প্রধান, বিভাগের সাবেক জ্যেষ্ঠতম অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট, ও দেশে-বিদেশে ৪৫ বছরের ইংরেজি ভাষা ও ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক। বর্তমানে ভিজিটিং প্রফেসর, সিলেট সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, সিলেট।




