দেশে-বিদেশে বিশ^বিদ্যালয় পর্যায়ে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে টানা ৪৫ বছরের অধ্যাপনার অভিজ্ঞতা থাকলেই বা কি হবে, বস্তুতঃ আমি একজন ক্ষুদ্র মানুষ, আপাদমস্তক একজন শিক্ষক। শিক্ষক হিসেবে আমার শির উঁচু, বুঝলাম; কিন্তু মহান আর উদার কে? উত্তরঃ বাদশাহ আমগীর। হায়রে রাজনৈতিক ফ্ল্যাটারি!
স্কুল জীবনে পড়েছিলাম, আমাদের এই পৃথিবী এবং প্লুটো নিজ নিজ ঘুর্ণয়নরত অবস্থায় যখন সূর্যের বিপরীতে দু’প্রান্থে বা দু’পাশে অবস্থান করে, তখন একটির দূরত্ব অপরটি থেকে হয় ৭.৫ বিলিয়ন কিলোমিটার; আর যখন সূর্যের দু’পাশ থেকে সরে কাছাকাছি অবস্থানে আসে, তখন পৃথিবী ও প্লুটোর মধ্যখানের দূরত্ব হয় ৪.২৮ বিলিয়ন কি.মি.।
আমাদের বাংলাদেশটাকে উঠিয়ে নিয়ে যদি প্লুটোতে স্থানান্তর করা যেত বা অবস্থান করানো যেত - ভারত তার স্বীয় অবস্থানেই থাকুক - তা হলেই শুধু আমরা শান্তিতে থাকতে পারতাম, অর্থাৎ বাংলাদেশ ভারতের নিয়ন্ত্রণমুক্ত থাকতে পারত। কিন্তু সেটা তো সম্ভব নয়। তাই অনাগত হাজার বছরের মধ্যেও যদি কোন দিন আওয়ামি লীগ আবার ক্ষমতায় আসে, তা হলে বিগত ৫৪ বছরে যা করেছে, ঠিক তা-ই আবার করবে। আর, ইতিমধ্যেই এমনও এক দিন আসতে পারে, যে দিন আওয়ামি লীগ বাংলাদেশটাকে ভারতের পূর্ববঙ্গ বানিয়ে ফেলবে, এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। আর, হাসিনা হবেন ঐ নতুন অঙ্গরাজ্যের টিপকপালি মূখ্যমন্ত্রী।
প্রিয় পাঠক-পাঠিকাবৃন্দ! কথাগুলো শুনতে খুব খারাপ লাগছে, তাই না? কী করব? স্মরন করছি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকেঃ
“বন্ধুগো, বড় বিষজ¦ালা এই বুকে,
দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি,
তাই যাহা আসে কই মুখে”,
এবং স্মরন করছি কবি ঈশ^রচন্দ্র গুপ্তকেঃ “তুমি মা কল্প-তরু, আমরা সব পোষা গরু,
ভূষি পেলে খুশি হই মা, ঘুষি খেলে বাঁচব না”।
ভূ-রাজনৈতিক কারণে বা দিক থেকে বাংলাদেশ খুবই ছোট্ট একটি দেশ, আর দুর্বল তো বটেই। ৫৪ বছরের সরকারগুলো কি ঘোড়ার ডিম করেছে? বিশাল! - বিশাল! মাত্র ১ লক্ষ ৭০ হাজারের সেনাবাহিনি নিয়ে আজও পড়ে রয়েছিল অর্ধ-মরার মত! অথচ ভাল করে গুণলে দেশে মানুষ হবে ২০ কোটি! আমার সাফ কথাঃ আগামি ১০ বছরে বাংলাদেশের আর্মি হবে ১০ লাখের।
আর, ‘বিজিবি’-এই অসম্মাজনক নামটি কোন্ উর্বর দেশি-বিদেশি (!) মস্তিষ্ক থেকে এসেছে, জানি না। দ্রæতই এই দুর্বল নম বদলিয়ে সম্মানজনক ও শক্তিশালি নাম রাখতে হবে ‘বিবিএফ”=“বাংলাদেশ বোর্ডার ফোর্স” অথবা ‘বিবিবি”=“বাংলাদেশ বোর্ডার ব্যাটেলিয়ন”।
জানি না ইউটিউবের সংবাদ কতটুকু সত্য বা অসত্য। আজই শুনলাম, সিইসি মহোদয় বলছেনঃ নিষিদ্ধ না হলে আওয়ামি লীগ নির্বাচনে আসতে কোন বাধা নেই! তিনি কি জনৈক উপদেষ্টার মত দাওয়াতই দিচ্ছেন? এত এত, এত এত জঘন্য অপরাধের পরও কি একটি দল এবং তার সকল অঙ্গসংঠনসমূহ নিষিদ্ধ হবে না? তা হলে কিসের জন্য এত রক্তপাত, আর এত শহিদী মরন? অন্য সরকার নিষিদ্ধ করতে পারে, আর এ সরকার পারে না? মনে রাখতে হবেঃ কোন বিপ্লবি সরকার কোন শাসনতন্ত্রের মধ্য দিয়ে আসে না, যেমন কোন পলায়নকারি সরকার কোন শাসনতন্ত্রের মধ্য দিয়ে পালায় না।
আগেকার দিনে শাস্থি ছিল নির্জন দ্বীপে নির্বাসন। এ যুগের নির্বাসন হচ্ছে সাদ্দাম, গাদ্দাফি, আসাদ গং।
বাংলাদেশের পালানেওয়ালাদের আছে মামার বাড়ি, আছে স্বামীর বাড়ি, আছে শ^শুরবাড়ি, আছে দাদার বাড়ি, আছে বৌ-এর বাড়ি! তারা তো এখনই গিয়ে ওখানে আরামে বসে আছে? বাকিরা যাবে কোথায়? জবাব দিন।
দাওয়াত দিয়ে নির্বাচনে আনবেন! কয়লা ধুইলে ময়লা যায় না। এ প্রবাদটুকুও বুঝেন না? নির্বাচন চালাবেন কীভাবে?
তাদের আছে একটি নির্দিষ্ট ভোট-ব্যাঙ্ক। ক্ষমতায় ছিল বলে এবার আওয়ামি দোসররা আগুন দিয়েছে সচিবালয়ে। শুধু ফিরে আরো একবার ক্ষমতায় আসুক। আগুন দেবে সংসদ ভবনে, গণভবনে, বঙ্গভবনে, এক এক করে প্রত্যেকটি বিমানবন্দরে ও বিমানঘাটিতে, ক্যান্টনমেন্টে, ডিআইজি অফিসে, ডিসি অফিসে, এসপি অফিসে, থানায়, ইউএনঅ অফিসে, এমন কি সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে ও পুলিশ ফাঁড়িতে। তারা কিছুই বাদ রাখবে না।
ভুলবেন না, দুর্বল সব সময় আত্মরক্ষায় থাকে। আত্মরক্ষার জন্য পৃথিবীর যত আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র-সমরাস্ত্র¿ আছে,সব আনেন, যে ভাবে পারেন। বিচার হয় নাই এখনো, সরকার কি করে, আদালত কি রায় দেন; কোনকিছুর নাই খোঁজ, আর মাগনা দাওয়াত?
১৬ বছরের বিচার করতে সময় লাগবে, লাগুক; চাই সুবিচার। এমন সুবিচার, যেন রায় কার্যকরের সময় দÐদাতাও কাঁদেন (রেফা: কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)।
স্বৈর-শাসকদের পতন বা মূলোৎপাটন কি ভাবে হয়, ইতিহাস থেকে তা শিক্ষা নিতে হবে। খুনবাজ, গুমবাজ, অত্যাচারি-জুলুমবাজ শাসকদের পরিনাম হয় ভয়াবহ-কল্পনাতীত। সে জন্য আগে বিচার, পরে অন্য কথা। এর বিকল্প কিছুই চিন্তা করা যাবে না।
আর, পাবলিক সার্ভিসের মূলনীতি হচ্ছেঃ “ম্যাক্সিমাম সার্ভিস ইন মিনিমাম টাইম”। অথচ, আমাদের সেক্রেটারিরা হচ্ছে এক একটা দানব। তাই, পূর্ণ সচিব হওয়ার সময় থেকে এদের সকল নিয়োগ হবে অস্থায়ী ‘চুক্তিভিত্তিক’ অথবা ‘পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত’। তবেই হবে সংস্কার।
আগুন দেয়ায় যে যে আমলাকে বা যে কাউকে জড়িত পাওয়া যাবে, আদালত যদি ফাঁসির রায় দেন, সরকার দ্রæত সেটি কার্যকর করুন। শুধু খবর প্রচার কোন সংস্কার নয়, এক আমলার ফাঁসি হলে, সব আমলাই ঠিক হয়ে যাবে। মার্কা মারা ও চিহ্নিত এক ক্যাডারের ফাঁসি হলে সব ক্যাডারই ঠিক। যারা ইতিমধ্যেই পাকড়াও হয়েছে, দ্রæত তাদের সুবিচার নিষ্পত্তি করছেন না কেন? পাবলিক এখনো অন্ধকারে কেন? শাস্থি কার্যকর করে করে শে^তপত্র প্রকাশ করুন।
তবে নিরপরাধ কোন মানুষ যেন ন্যূনতম কষ্ট না পায়। আগের রীতি তো ছিল, যাকে ইচ্ছে, তুলে আনো, গায়েবি মামলা দাও। বাস্তবে, এক রাজমিস্ত্রি কাজ করছিল তার গ্রাম থেকে ৯ মাইল দূরে আরেক গ্রামে, মালিক স্বয়ং হাজির থেকে কাজ করাচ্ছিলেন। ঐ দিন নাকি দুপুরে তার গ্রামে সে পুলিশকে আক্রমন করেছিল! সেজন্য আরও অনেকের মত সে-ও মাস খানেক তার বাড়িতে ঘুমাতে পারে নি। পরে খেল ধরা, এক মাস জেলে। তারপর ঢাকায় গিয়ে আরও এক মাসে খালাস পেয়ে এসেছে। গরীবের নাকি নাই দুই লক্ষ টাকা! তার অপরাধঃ সে ছিল বিএনপি সমর্থক। মাঠপর্যায়ের আওয়ামি নেতারা এই ভাবে লাখো মানুষকে ফকীর বানিয়েছে।
যারা আজ বিদেশে গিয়ে পালিয়ে আছে, তাদের বিচার ইন এ্যাব¯েœশিয়া সম্পন্ন করতে বাধা কোথায়? পড়ে থাকুক বিদেশে, দেশে ফিরলেই রায় কার্যকর হবে, এ্যাব¯েœশিয়ার কারণে বিচার তো থেমে থাকতে পারে না বা বিলম্বিত হতে পারে না, অন্য দেশ ফেরত দিল বা না দিল, বাংলাদেশ বসে বসে তার দয়ার অপেক্ষা করবে কেন? কিসের বিনিময় চুক্তি? পতিত ও নির্বাসিত কোন সরকারের কোন চুক্তিই, কোন শাসনতন্ত্রই টিকে না, ক্ষেত্র-বিশেষে তার দেয়া বা করা নিয়োগ-বদলিও টিকবে না। না বর্তমান সরকারের ভেতরে কোন ভূত আছে? যদি সত্যিই থেকে থাকে, তা হলে পানি পড়া-সরিষার তেল পড়া দিয়ে তাদেরকেও আটক করুন এবং শাস্থির আওতায় আনুন, দেরি করার তো কোন কারণ দেখা যায় না। তারপর একটা সম্মানজনক সময় বেঁধে দিয়ে নির্বাচন দিন।
আওয়ামি লীগ ক্ষমতায় থেকে মানবকে বানিয়েছে বানরের উত্তরসূরী। পরে বানাবে শুকরের, পরে গাধার, তারপর কুকুরের, তারপর চামচিকার, এবং সর্বশেষে তেলাপোকার..! টেক্স্টবুক বোর্ডের ইংলিশ পাঠ্যবই ভুল ইংলিশে ভরা! লিখেছি অনেক আগের শিক্ষামন্ত্রীর কাছে, তবে উনি তো থাকতেন বিদেশ-ভ্রমনে যাওয়ার প্লান নিয়ে ব্যস্ত, আমার লিখা, পড়ার সময় উনার পাওয়ার কথা না। জাতীয় কারিক্যুলামের ইংলিশ মিডিয়াম পাঠ্যপুস্তকগুলো না জানি কোন্ ল্যাটিন বা ফ্রেঞ্চ ইংরেজিতে লিখা আছে!
এবার নজরুলের কথা দিয়েই ইতি টানতে চাইঃ
“রক্ত ঝরাতে পারি না তো একা,
তাই লিখে যাই এ রক্ত লেখা”
লেখক: প্রফেসর ড. মো. আতী উল্লাহ, ইংরেজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা ও ২৪ বছরের বিভাগীয় প্রধান, বিভাগের সাবেক জ্যেষ্ঠতম অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট, ও দেশে-বিদেশে ৪৫ বছরের ইংরেজি ভাষা ও ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক। বর্তমানে ভিজিটিং প্রফেসর, সিলেট সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, সিলেট।




