আমি নিতান্তই হতবাক। এ অনর্বর্তীকালীন সরকার বসে বসে কী করছে? এতদিন ভেবেছিলাম, জেনারেল ওয়ারুজ্জামান ৪৫ মিনিটের টাইম দিয়ে হাসিনাকে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করে একটি ভাল কাজ করেছেন। অন্ততঃ বিচারের আগে তার প্রাণ বাঁচিয়েছেন। এখন দেখছি সেটা হয়েছে দেশের জন্য একটি বড় অভিশাপ।
পলাতক হাসিনা ভারতে বসে চরমভাবে কলকাঠি নাড়ছে দেশের বিরুদ্ধে। তাতে উজ্জিবীত হচ্ছে দেশের ভেতরে লুক্কায়িত তার ছাত্রলীগ ও আওয়ামী কমীর্—দোসররা। এদেরকে ধরতে না পারাটা এ সরকারের চরম ও ধিক্কারজনক ব্যর্থতা।
কোন ঘটনা সামনে আসলেই সরকার বলে— এদেরকে ধরে বিচারের আওতায় আনা হবে। আমার প্রশ্ন=কখন, কোন্ দিন, কিয়ামতের আগে, না পরে? এই দীর্ঘসূত্রিতার কারণেই হাসিনা পারছে নিয়মিত অডিও বার্তা—স্টেটাস দিতে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশব্যাপি ছাত্র—জনতা চালাচ্ছে ভাংচুর—তাণ্ডব। এটাও সরকারের নির্লজ্জ ব্যর্থতা। আজ দুপুরে শুনলাম, গাজীপুর না কোথায় ছাত্র—জনতা ভাংচুর চালাতে গিয়ে তাদের ২০/২২ জন ছাত্র—জনতা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে মারাত্মকভাবে আহত হয়ে হাসপাতালে গেছেন। এসব কী আরম্ভ হয়েছে দেশে? এ সরকার কি চায় দেশে সেনা—শাসন আসুক, বা দেশে গৃহযুদ্ধ লাগুক যাতে করে তাদের নিজেদের কোন দায় নিতে না হয়?
একবার সরকার কয়েকজন আওয়ামি দোসরকে গ্রেফতার করে। এরাই আবার জামিনে মুক্তি পায়। আবার অরো কয়েকজনকে গ্রেফতার করে জেলে নিয়ে যায়! এটা এ সরকারের খেলা না কি? না দেশবাসীকে তাদের কার্যক্রম দেখায়?
আজ ৬ মাসের অধিক! কোন একটি বিচারেরও রায় নেই? কোথায় বিডিআর হত্যাণ্ডের বিচার, যেটা সবাই চায়? এটা হত একটা সত্যিকারের সংস্কার। ফাঁসি হয়েছে কয়জনের? যে কতজন মুক্তি পেয়েছেন, তা অবশ্যই আনন্দের। কিন্তু হুকুমদাতাদের ফাঁসি কোথায়? সরকার শধু গা বাঁচিয়ে সেটাই করছে, যাতে তাদের কাপড়ে কোন দাগ না লাগে।
শুধু শোনা যায়, অমক—তমুকের বিরুদ্ধে অত শত মামলা পড়েছে। তো বিচার হয় না কেন? পালিয়ে থাকলেও তো ‘ইন এ্যবসেন্সিয়া’ বিচার হয়, রায় হয়। বুঝি না, এ সরকার কাকে ভয় পায়? কোন্ জুজুবুড়ি ধরেছে তাদেরকে? নাকি তারা ঘুমের বড়ি খেয়েছে?
না সরকার এটা ভাবছেঃ অমরা বিচার করে যদি সঠিক বিচারের মাধ্যমেও ফাঁসির রায় কার্যকর করি, তা হলে দু’দিন পর আমরা যখন চলে যাব, তখন আমাদের নিজেদের কী হবে, আমাদেরকে রক্ষা করবে কে? তাই, কোনমতে একটা নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত সরকারের উপরই দায়টা ফেলে দেই, তা হলে আমরা নিরাপদই থেকে যাব, “দুধে ধোয়া পানির মত”! আর এখন শুধু বিচারের ফাইলের হিমালয় পর্বত গড়ে উঠুক—এটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ, অর্থাৎ “ধরি মাছ, না ছুঁই পানি”।
গতকাল মিডিয়ায় দেখলামঃ ছাত্র—জনতার মিছিলের উপর আওয়ামি সন্ত্রাসীদের হামলা। দেশে সরকার কি আছে? না, নাই=তা—ই এখন প্রশ্নবিদ্ধ। তা হলে এ মূহুর্তেই উচিৎ এ মাজাভাঙ্গা সরকারের পদত্যাগ করা। আর—এ মূহুর্তেই উচিৎ দেশটাকে সেনাবাহিনির হাতে তুলে দেয়া, যেহেতু আপনারা ‘অ, আ, ক, খ, গ’ কিছুই পারবেন না!
১. ৬ মাসাধিককালের অধিক সময়ে একটি বিচারও করতে না পারা এ সরকারের চরম ব্যর্থতা।
২.দেশের ভেতরে লুকিয়ে ও ওৎ পেতে থাকা সকল আওয়ামিদের ধরতে না পারা সরকারের উলঙ্গ নির্লজ্জতা।
৩. পালিয়ে যাওয়া হাসিনার মুখ বন্ধ করতে না এ সরকারের কূলবিহীন কাপুরুষতা।
৪. হাসিনার মুখ বন্ধ করতে না পারার কারণে ছাত্র—জনতার ভাংচুরও এ সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতার ফল।
৫. ভারতে আশ্রয় নেয়া একটি আওয়ামিকেও ফেরৎ আনতে না পারা সরকারের ধ্বজভঙ্গতার প্রমান।
৬. জন—জীবনে স্বশিÍ ফিরিয়ে আনতে না পারা সরকারের উদাসীনতার পরিচয়, মানে—আমরা তো ভালই আছি, ক্ষমতায় আছি, এর চাইতে বড় সফলতা আমাদের আর কী হতে পারে?
৭. বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ২০০% ব্যর্থ। পাকিস্তনি খেজুরের ছবি দেখিয়ে কী লাভ? মানুষকে বোকা বানানো? খেজুর আমরা প্রতি বছরই পাই ও খাই। এটা সরকারের একটা প্রহসন।
৮. পাকিস্তানি জাহাজ আসাটাই কি এ সরকারের সফলতা। পাকিস্তানি জাহাজ আনার জন্য তো জুলাই—বিপ্লব হয় নি। এভাবে চলতে থাকলে এ সরকারই জুলাই—বিপ্লব ধ্বংস করে দেবে।
৯. ঐ দেশের প্লেন অবতরনই কি মানুষ চেয়েছিল? সরাসি ফ্লাইট কি বিপ্লবের এ্যাজেণ্ডায় ছিল?
১০. ঐ দেশের সাথে সম্ভাব্য সামরিক মহড়াই কি আমরা চেয়েছিলাম? পাকিস্তানিরা আমাদের সেনাবাহিনিকে প্রশিক্ষণ দেবে, এটা কি জুলাই—বিপ্লবের দর্শন ছিল?
১১. সরকার পাকিস্তানকে চিনল না, ধীক, লজ্জা! ঘেন্ন্া ধরার তথা। পাকিস্তান কি অন্তর্বতীর্কালীন সরকারকে বাঁচাবে? সরকার বোধ হয় তা—ই মনে করে! ৫৪ বছর কি আপনারা ভাত খেয়ে বাঁচেন নাই? তা হলে ভাতের আক্কেল—বুদ্ধি, আসল বুদ্ধি গেল কোথায়? বয়স পার করেছেন কিভাবে?
১২. পাকিস্তান তো ভারতকে চড়+শিক্ষা দেয়ার একটু সুযোগ পেয়েছে মাত্র—এ মোটা মাথার সরকার এ টুকুও বুজছে না। জুলাই বিপ্লবের আদর্শ কি শুধু পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক উন্ন্য়ন ছিল?
১৩. নোবেল—লোরেট সনদ দিয়েই কি বাংলাদেশীদের পেট ভরে যাবে? বিপদের সময় ছাত্র—জনতা এনেছিল বলে আজ খোদ তাদের পেটেই লাথি মারবেন পাকিস্তানি পেয়াঁজ এনে?
১৪. এ সরকার কি এতই আহ্মক যে, বুঝে না যে, আওয়ামিদের বিচারের আগে বাংলাদেশিদের পেট ভরবে না?
১৫. তা হলে তা করছে না কেন? বোধ হয় পাকিস্তানিদের সাহায্যের আশায় বসে আছে তারা! অপেক্ষা করুন, দেখুন, পাকিস্তান বাংলাদেশকে সাহায্য করে, না বাঁশ দেয়। পাকিস্তান তো শুধু ফুরসত খোঁজছে, বাংলাদেশের উছিলায় ভারতকে বাঁশ দেয়া যায় কীভাবে? অর্থাৎ, বাংলাদেশ হতে যাচ্ছে বলির পাঠা! অর্থাৎ “বিদেশির সুন্দরী বউ, সকলের ভাবী”।
১৬. নোবেল—সনদের সরকারের জন্য কি ন্যায়—বিচার করে ফাঁসি কার্যকর করা নিষিদ্ধ? মনে রাখতে হবেঃ নোবেল—সনদ এক জিনিস, আর সাদ্দামকে আমেরিকার ফাঁসি দেয়া অন্য জিনিস। সৌদি আরবের ফাঁসির সাথে তো তুলনাই হয় না।
দেশে—বিদেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে টানা ৪৬ বছরের অধ্যাপনার অভিজ্ঞতা থাকলেই বা কি হবে, বস্তুতঃ আমি একজন ক্ষুদ্র মানুষ, আপাদমস্তক একজন শিক্ষক। শিক্ষক হিসেবে আমার শির উঁচু, বুঝলাম; কিন্তু মহান আর উদার কে? উত্তরঃ বাদশাহ আমগীর। হায়রে রাজনৈতিক ফ্ল্যাটারি!
স্কুল জীবনে পড়েছিলাম, আমাদের এই পৃথিবী এবং প্লুটো নিজ নিজ ঘুর্ণয়নরত অবস্থায় যখন সূর্যের বিপরীতে দু’প্রান্থে বা দু’পাশে অবস্থান করে, তখন একটির দূরত্ব অপরটি থেকে হয় ৭.৫ বিলিয়ন কিলোমিটার; আর যখন সূর্যের দু’পাশ থেকে সরে কাছাকাছি অবস্থানে আসে, তখন পৃথিবী ও প্লুটোর মধ্যখানের দূরত্ব হয় ৪.২৮ বিলিয়ন কি.মি.।
অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, আমাদের বাংলাদেশটাকে উঠিয়ে নিয়ে যদি প্লুটোতে স্থানান্তর করা যেত বা অবস্থান করানো যেত — ভারত তার স্বীয় অবস্থানেই থাকুক — তা হলেই শুধু আমরা শান্তিতে থাকতে পারতাম, অর্থাৎ বাংলাদেশ ভারতের নিয়ন্ত্রণমুক্ত থাকতে পারত। কিন্তু সেটা তো সম্ভব নয়। তাই অনাগত হাজার বছরের মধ্যেও যদি কোন দিন আওয়ামি লীগ আবার ক্ষমতায় আসে, তা হলে বিগত ৫৪ বছরে যা করেছে, ঠিক তা—ই আবার করবে। আর, ইতিমধ্যেই এমনও এক দিন আসতে পারে, যে দিন আওয়ামি লীগ বাংলাদেশটাকে ভারতের পূর্ববঙ্গ বানিয়ে ফেলবে, এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। আর, হাসিনা হবেন ঐ নতুন অঙ্গরাজ্যের টিপকপালি মূখ্যমন্ত্রী।
প্রিয় পাঠক—পাঠিকাবৃন্দ! কথাগুলো শুনতে খুব খারাপ লাগছে, তাই না? কী করব, আপনারাই বলুন।
ভূ—রাজনৈতিক কারণে বা দিক থেকে বাংলাদেশ খুবই ছোট্ট একটি দেশ, আর দুর্বল তো বটেই। ৫৪ বছরের সরকারগুলো কি ঘোড়ার ডিম করেছে? বিশাল!—বিশাল! মাত্র ১ লক্ষ ৭০ হাজারের সেনাবাহিনি নিয়ে আজও পড়ে রয়েছিল অর্ধ—মরার মত! অথচ ভাল করে গুণলে দেশে মানুষ হবে ২০ কোটি! আমার সাফ কথাঃ আগামি ১০ বছরে বাংলাদেশের আর্মি হবে কমপক্ষে ১০ লাখের।
আর, ‘বিজিবি’—এই অসম্মাজনক নামটি কোন্ উর্বর দেশি—বিদেশি (!) মস্তিষ্ক থেকে এসেছে, জানি না। দ্রুতই এই দুর্বল নাম বদলিয়ে সম্মানজনক ও শক্তিশালি নাম রাখতে হবে ‘বিবিএফ”=“বাংলাদেশ বোর্ডার ফোর্স” অথবা ‘বিবিবি”=“বাংলাদেশ বোর্ডার ব্যাটেলিয়ন”।
লেখক: প্রফেসর ড. মো. আতী উল্লাহ, ইংরেজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা ও ২৪ বছরের বিভাগীয় প্রধান, বিভাগের সাবেক জ্যেষ্ঠতম অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট, ও দেশে—বিদেশে ৪৬ বছরের ইংরেজি ভাষা ও ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক। বর্তমানে ভিজিটিং প্রফেসর, সিলেট সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, সিলেট। ০৮/০২/’২৫




