ছবি : সিলেটভিউ
রমজান মাসে কর্মজীবী মানুষের বেশির ভাগই অফিসে শেষে বাসায় ফেরেন ইফতারের আগে। সবার টার্গেট বাসায় ইফতার করা। কিন্তু কাজ শেষ করে ঘরমুখো হতেই পড়তে হয় যানজটে। তীব্র যানজটে নাকাল মানুষজন। যানজট ভোগান্তির কারণে অনেককে বাধ্য হয়ে পথেই ইফতার করতে হয়! গত রোববার ও আজ সোমবার সিলেটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।
আজ সোমবার রমজানের নবম দিনে বিকাল থেকে সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রাপথে ভোগান্তিতে পড়েন গন্তব্যে যাওয়া মানুষ।
ইফতারের ঠিক ২০ মিনিট আগে নয়াসড়ক এলাকায় সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ যানবাহনের লাইনে আটকা থাকা রশিদ নামের এক রিকশাচালক সিলেটভিউকে জানান, আধা ঘণ্টা পার হলেও রিকশার চাকা ঘুরছে না। রিকশায় থাকা নারী যাত্রী বসে বসে বিরক্ত প্রকাশ করছেন। তিনি বলছিলেন, সঙ্গে বাচ্চা না থাকলে হেঁটে বাসায় চলে যেতাম। একই চিত্র বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, নয়াসড়ক, আম্বরখানা, শাহজালাল মাজার এলাকার পায়রা আবাসিক এলাকা, মদিনা মার্কেট, শিবগঞ্জ ও টিলাগড় সড়কেও।
গত রোববার (৮ রমজান) ইফতারের আগে গন্তব্যে যেতে হাতে পর্যাপ্ত সময় রেখে অফিস থেকে বের হয়েছিলেন সাংবাদিক ইয়াহ্ইয়া মারুফ। কিন্তু তার আর সময়মতো গন্তব্যে যাওয়া হয়নি। তীব্র যানজটের কারণে পথেই ইফতার করতে হয়েছে তাকে। আফসোস নিয়ে তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘গন্তব্যে আর যাওয়া হল না! পাথরবাহী ট্রাক ইফতারের আগ মুহুর্তে ছেড়ে যানজট তৈরী। আম্বরখানা, দর্শন দেউড়ী, সুনামগঞ্জ, সড়ক। রোববার ৫টা ৫৮ মিনিটে।’
জিন্দাবাজার এলাকার এক পাঠাও বাইক চালক সিলেটভিউকে বলেন, ‘বেশ কয়েকবছর থেকে সিলেট শহরে বাইকার হিসেবে কাজ করছি। কোনো রমজানে এমন ভোগান্তিতে পড়িনি। এক পয়েন্ট থেকে আরেক পয়েন্টে যেতেই ২০ মিনিট লেগে যাচ্ছে সেখানে ৫ মিনিট লাগার কথা।’
তবে সিলেট ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, সিলেটের যাটজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ সব সময় কাজ করছে। রাস্তায় অবৈধ ফুটপাত ও ট্রাফিক পুলিশের জনবলের অভাবে কাজে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটে।
মহানগরীর চৌহাট্টা পয়েন্টে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট আলম সিলেটভিউকে বলেন, আমরা প্রতিদিনই মহানগরীর যানজট নিরসনে কাজ করে থাকি। মানুষজন যাতে সময়মতো বাসা-বাড়িতে গিয়ে ইফতার করতে পারে সেজন্য আমরা সড়ককে যানবাহন চলাচল সু-শৃঙ্খল রাখতে কাজ করে যাচ্ছি। এতে অনেক সময় আমাদের সড়কেই ইফতার সাড়তে হয়।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / মাহি




