কীসের এত “মাননীয়” “মাননীয়”?
জানি না, ১বছর পর এ সরকারের অর্জন কতটুকু হবে। তবে আমি আশাবাদি। কিন্তু এখন “মাননীয়” “মাননীয়” শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা। এ দেশের চাকরি-জীবি সবাই হচ্ছেন জনগনের “সেবক” বা “চাকর”, যেহেতু তাদের পেশা হচ্ছে “চাকুরি”। তাদের কাজই হলোঃ
“Maximum Public Services in Minimum Time.”
কিন্তু এর বাইরে সংসদ-সদস্য আছেন যারা, তারা সরাসরি “চাকর” না হলেও, হচ্ছেন জনগণের “সেবক”। তবে, সংসদে কোন বক্তব্য দেয়ার আগেও তারা লাগান “মাননীয়”, মাঝেও “মাননীয়”, শেষেও “মাননীয়”। এই তো আরম্ভ হয়ে গেল অভিশপ্ত রাজনৈতিক ফ্ল্যটারির খেলা, এবং ব্যাক্তি-পূজা।
এখন যাবেন কোথায়? তাই, এ “মাননীয়” নিয়ে এ মূহূর্তেই একটি মহাকাব্য লিখা যায়। অথচ, এই “মাননীয়”দের কাজই হ”্ছে বা কাজ ছিল এবং আজও আছে কাজ এবং ভবিষ্যতেও এই কাজ থাকবে এবং তাঁদের কাজ হবেঃ
“পরিপূর্ণভাবে জনগণের সেবা করা”
কথাগুলো বলতে গিয়ে আমার নিজের পরিচয়টা আগেই দেয়া ভাল, যাতে কোন ভুল বুুঝাবুজির সুযোগ না থাকেঃ আমি বিসিএস্ ক্যাডার (ইংলিশ, শিক্ষা-ক্যাডার) - ১৯৭৯, পিইচডি, ইংলিশ - ২০০১।
দেশে-বিদেশে বিশ^বিদ্যালয় পর্যায়ে আমার শিক্ষক-জীবনের বয়স আজ ৪৬বছর। পড়িয়েছি ১৪টি দেশের শিক্ষার্থীদেরকে। প্রকাশ করেছি, আজ পর্যন্ত, ১৬টি ভলিউম বই।
সাস্টে একাধারে কাটিয়েছি ২৯বছর। আমার ইংরেজি বিভাগের ভিাগীয় প্রধানের দায়িত্বে ছিলাম প্রায় ২৪বছর, “বিজিনেস এডমিনিস্ট্রেশন” বিভাগের প্রধানের অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলাম আড়াই বছর, একটি ছাত্র-হলের দায়িত্বে ছিলাম দীর্ঘ ৭বছর, পিএস্এস্ বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করতে হয়েছে মধ্যে মধ্যে। আর বিভিন্ন কমিটি-উপ-কমিটির দায়িত্বও পালন করেছি আজীবন।
প্রফেসর ড.মোঃ আতী উল্লাহ্
সিলেটের বাইরেও দেশের অন্যান্য বিশ^বিদ্যালয়ে যেতে হয়েছে আজীবন এমফিল-পিএইচডি-গবেষণা করানোর জন্য এবং আন্তর্জতিক সেমিনারের জন্যও দায়িত্বে ছিলাম সাস্ট ছাড়াও অনেক বিশ^বিদ্যায়ে। সিলেটে তিনটি প্রাইভেট বিশ^বিদ্যালয়ের গোড়া-পত্তনে রয়েছে আমার অসামান্য ও অনস্বীকার্য অবদান। গ্রামীন পর্যায়েও শিক্ষা বিস্তারে কাজ করেছি ও করছি অনেক, উপাধি পেয়েছি=“শিক্ষা অগ্রদূত” (২০১৬)।
্
কবির আহাযারি শুনুনঃ
“বন্ধুগো, বড় বিষ-জ¦ালা এই বুকে
দেখিয়া-শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি
তাই, যাহা আসে কই মুখে!
রক্ত ঝরাতে পারিনাতো একা,
তাই, লিখে যাই এ রক্ত-লেখা,
বড় কথা বড় ভাব আসেনাকো মাথায়
বন্ধু! বড় দুঃখে
অমর কাব্য লিখিও তোমরা বন্ধু
যাহারা আছ সুখে!”
-বিদ্রোহি ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
নজরুলও নোবেল প্রাইজ পেতেন, যদি না বিদ্রোহ করতেন।
চলুন না এবার, একটু ভুলের সাগরে ডুব দেই, হাঃ হাঃ, কী মজা!
আমাদের দেশের নাম ভুল?
আমাদের রাস্ট্রের নাম ভুল?
সকল বিশুদ্ধ নামই আমি দেব, যেহেতু এ সমস্ত ব্যাপারে আমি লেখা-লেখি করছি ৪৬বছর থেকে। কিন্তু হায়, কেউ শোনে না!
৪. জাতীয়-সংগীত ভুল?
৫. “প্রজাতন্ত্র” নামটি ভুল?
৬. “বিজিবি” নামটি ভুল এবং চুড়ান্ত-ভাবে মান-হানিকর? জানিনা, কোন্ মস্তিক থেকে এনাম এসেছে, না কোন বিদেশি শক্তি এ নাম দিয়েছে আমাদের দেশটাকে করদ রাষ্ট্র বানানোর জন্য? তবে পাকিস্তনি গন্ধ-যুক্ত “বিডিআর” নামেও আমি ফিরে যেতে চাই না।
৭. “রাজপথ” ভুল?
৮. “রাজধানি” ভুল?
৯. এই ভাবে ঔপনিবেশিক সব নামই ভুল?
১০. “ভিক্টোয়িা কলেজটি” কি রাণী ভিক্টোরিয়া তার বাপের টাকায় বানিয়েছিল? এ কারণেই কবি ঈশ^র চন্দ্র গুপ্ত ব্যাঙ্গ করে লিখেছিলেনঃ
“মা তুমি কল্প-তরু
আমরা সব পোষা গরু
ভূষি পেলে খুশি হই মা
ঘুষি খেলে বাঁচব না”।
১১. পোষ্ট-অফিসে চিঠি ফেলার বাক্সের লাল রং ভুল?
১২. রেল-পথের লাল ইটের দেয়ালের রং ভুল এবং ঔপনিবেশকদের কাছে মাথা নত করারই নামান্তর?
১২.“পর-রাষ্ট্র”নামটি ভুল?
১৩.“পর-রাষ্ট্রমন্ত্রী” উপাধিটা ভুল?
১৪.“পর-রাষ্ট্রমন্ত্রী”ও ভুল?
১৫. “পর-রাষ্ট্রমন্ত্রনালয়” ভুল?
১৬. “রাজনীতি” শব্দটিও ভুল?
১৭. “রাজনীতিবিদ” শব্দটিও ভুল?
১৮. “রাজনৈতিক” শব্দটিও ভুল?
১৯. আমরা আমাদের বিশ^বিদ্যালয়-গুলোতে “রাজনীতি বিজ্ঞান” পড়াইনা, পড়াই “রাষ্ট্রবিজ্ঞান”?
২০. “জুলাই” সনদে আগে স্বাক্ষর হয়েছে (আপনাদের কথা অনুযায়ী) শুধু নির্বাচন পাওয়ার জন্য, আর, ক্ষমতায় জাওয়ার জন্য।
২১. আর,ক্ষমতায় গিয়ে এখন বলা হচ্ছে অন্য কথা। হায়রে বাংলাদেশিগণ! তোমাদের কপাল কি এতই খারাপ!
“১৭বছর নির্বাসনে থেকে এখন জনাব তারেক জিয়া হয়েছেন দেশের
“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী”। আমি অন্তত মহাখুশি, কারণ, তাঁর পিতা,
শহীদ জিয়া, ছিলেন এজন মহান মুক্তিযুদ্ধা। আর, মীনা-আরাফাতের
ময়দান-দু’টি সহ সৌদি-আরবের অনেক জায়গায় রয়েছে
“সাজারাতুজ্জিয়া” বা “জিয়া ট্রি”= নিম গাছ), যেগুলোর শীতল ছায়ায়
বসে (২০২৩) আমি ও আমার স্ত্রী ঐ শীতলতা উপভোগ করেছি কম-
পক্ষে ৮দিন। দোয়া করি, “হে আল্লাহ, আমাদের মাননীয় প্রেসিডেন্ট
শহীদ জিয়া (রঃ)কে জান্নাতের সু-উচ্চ মাকাম দান করুন।
আর, হে আল্লাহ, আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর আম¥া,
“আপোষহীন ও চরমভাবে মজলূম দেশনেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী” বেগম
খালেদা জিয়া (রঃ)কেও তাঁর স্বামীর মত জান্নাতুল ফেরদাঊসের
সু-উচ্চ মাকাম দান করিও”।
“তারেক দম্পতির কন্যা। ব্যারিস্টার জাইমা। আল-র্ক্বেআনে এসেছেঃ
পুত্র-সন্তানের জন্ম-সংবাদ, শুধুই সংবাদ, আর, কন্যা-সন্তানের জন্ম-সংবাদ
“সুসংবাদ”,অর্থাৎ, একটি হচ্ছে “খবর”, অন্যটি “সুখবর”। হাদিসে এসেছেঃ
“খাইরু আওলাদুকুম আল-বানাত”
“তোমাদের কন্যা-সন্তান উত্তম”, পুত্র-সন্তানের সমান নয়।
“Among your children, daughters are better.
“তোমাদের সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে কন্যা-সন্তান উত্তম বা শ্রেয়”, দু’জন কখনো
সমান নয়। আমরা ইংরেজি সাহিত্যে পড়েছি ও পড়াচিছঃ
“Sons break families
Daughters bring bondage”
এবার আসি দুর্নীতিবন্ধের উপায় কী কী হতে পারে? ঊত্তর খুব সহজ।
১. মন্ত্রী বদলায়, সচিবরা থেকে যায়। তাই, এসিল্যাণ্ড্ হতে হলে তার অন্ততঃ একটি পাবেিকশন অবশ্যই লাগবে। আর, ইউনঅ হতে গেলে তার পাবলিকেশন্স হতে হবে মিনিমাম ৩টি। দেখবেন,এরা আর দুর্নীতি করতে পারবে না।
২. তাদের মাথায় থাকবে শুধু অধ্যয়ন আর অধ্যয়ন, গবেষণা আর গবেষণা, পাবলিকেশন্স্ আর পাবলিকেশন্স্। দুর্নীতি করার র্ফুসতই পাবে না।
৩. চারটি পাবলিকেশন্স লাগবে এর উপরের পদে যেত হলে।
৪. উপসচিব হতে লাগবে ৫টি পাবলিকেশন্স্।
৫. যুগ্মসচিব হতে গেলে পাবলিকেশন্স্ লাগবে ৬টি।
৬. সচিব হতে গেলে পাবলিকশন্স্ লাগবে ৭টি।
৭. আর, সিনিওর সচিবের বেলায় প্রকাশিত গবেষণা-প্যার্পাস্ লাগবে ৮টি।
দেখবেন, দুর্নীতি বন্ধে আর কোন ঔষধ লাগবে না। ফাইল চালাচলিও থাকবে না। কারো আমিত্বও থাকবে না, আমলাতন্ত্রও থাকবে না। তারা সকলেই হয়ে উঠবে মাটির মানুষ।
এগুলো করেই দেখুন না, ফলাফল আসছে কী ভাবে? কারণ, দেশটাতো আপনার, আমার এবং সকলের।
“অধিকন্তু, কবর রচিত হবে দুর্নিতির”
এখন সরকারকে আমি মাত্র ১টি পরামর্শ দিতে চাইঃ
এই একের ভেতরেই আছে অনেকঃ কী কী ভাবে দেশের বেকারত্ব দূর করা যায়ঃ
১. প্রতিটি বিশ^বিদ্যালয়ে থাকবে ২শিফ্ট্। প্রথম শিফ্ট্ হবে সকাল ৭.৩০থেকে বিকেল৩.৩০। কর্ম-ঘন্টা হবে এখনকার মত ৮ ঘন্টা। ২য় শিফ্ট্ হবে ৩.৩০ থেকে রাত ১১.৩০। এখানেও কর্মঘন্টা হবে ৮ঘন্টা।
২. থাকবেন সম্পূণর্ আলাদাভাবে ২জন ভিসি, ২জন প্রো-ভিসি ও ২জন ট্রেজারার। প্রথম শিফ্টের অফিশিআল সভা হবে সকাল ১১.৩০ থেকে দুপুর ১২.৩০ বা ১.০০টা। ২য় শিফ্টের মিটিং হবে ৩.০০ থেকে ৪.০০ বা ৪.৩০।
৩. দেখা যাবে, এখন শিক্ষক লাগছে ৫০০জন, তখন লাগবে ১০০০জন। এখন অফিসার লাগছে ২৫০ জন, তখন লাগবে ৫০০জন। এ ভাবে সবই লাগবে দ্বিগুণ। তখন উচ্চ-শিক্ষিত-জনের কোন বেকারত্ব থাকবে না।
৪. একই ভাবে অবশ্যই চলবে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও জেলা, ডিসি অফিস, ইউএনঅ অফিস, এসি-ল্যাÐ অফিস, ও যাবতীয় অফিস-সমূহ ।
৫. বর্তমানে তো মা-শা-আল্লাহ, অনেক বিশ^বিদ্যালয়ে ২.০০টার পর একটি কাকও ডাকেনা, অথচ, বিভিন্ন কায়দায় এই শিক্ষকগণই স্যান্ধকালীন ক্লাশ নিতেই আছেন বিভিন্ন ডিগ্রি-ডিপ্লোর নামে ।
৬. আর, তখন কেরানি সহ-পরিচ্ছন্নতাকর্মী, সকল স্তরেই কর্মজিবী লোকবল লাগবে দ্বিগুণ। কাউকে আর ভূমধ্যসাগরে ডুবেও মরতে হবে না।
৭. আমার অটল বিশ^াস, তখন দেশে কোন বেকারত্বও থাকবে না, চাঁদাবাজি-ছিন্তাইবাজিও না। চাক্রির সুবাদে সব মানুষ ডুবে থাকবে তার নিজ নিজ কাজেরই মধ্যেই। ট্রাই করে দেখুন না একবার, অন্ততঃ ধাপে ধাপে।
প্রথম প্রথম একটু কেমন কেমন ও বেখাপ্পা লাগতে পারে। কিন্তু একদিন সবই ঠিক হয়ে যাবে। দেশে-বিদেশে ৪৬ বছরের চাকুরির অভিজ্ঞতা নিয়ে ৭৪ বছর বয়সে এসে এ পরামর্শ দিলাম। বিদেশে আমিও ক্লাশে ঢুকতাম সকালের আবছা অন্ধকার থাকা অবস্থায়।
বাংলাদেশ-জিন্দাবাদ, বিএনপি-জিন্দাবাদ, আমার সাস্ট-জিন্দাবাদ।
লেখক: প্রফেসর ড. মো.আতী উল্লাহ, ইংরেজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা ও ২৪ বছরের বিভাগীয় প্রধান, বিভাগের সাবেক জ্যেষ্ঠতম অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট, ও দেশে-বিদেশে ৪৬ বছরের ইংরেজি ভাষা ও ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক।




