সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশে একের পর এক ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন যাত্রী ও চলাচলকারীরা। সাম্প্রতিক সময়ের কয়েকটি দুর্ঘটনা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে স্থানীয়দের মনে।
২২ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৬ দিনে মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশে ৫টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৬জন। আহত হয়েছেন প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ।
মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলা অংশকে দুর্ঘটনা ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে দেখছেন অনেকেই। উপজেলার নাজির বাজার থেকে শেরপুর পর্যস্ত প্রায় ২৪ কিলোমিটার সড়কে রয়েছে প্রায় ১৯টি দুর্ঘটনা প্রবণ স্থান। বিগত সময়ে এসব স্থানে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটলেও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে তেমন কোন উদ্যোগ লক্ষ করা যায়নি। একই স্থানে একাধিক দুর্ঘটনা স্থান হওয়ায় এসব স্থানকে ওসমানীনগরে সড়কে ‘ডেঞ্জার জোন’ বলা হয়।
জানা গেছে, ২২ অগস্ট ওসমানীনগরের ব্রাহ্মণগ্রামে তৈলবাহী ট্রাক সিএনজি চালিত অটোরিকশাকে উল্টোপথে গিয়ে চাপা দিলে ঘটনাস্থলে একই পরিবারের ৩ জনসহ ৫ জন নিহত ও অটোরিকশায় থাকা আরো ৩ যাত্রী গুরুতর আহত হন। পরে আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন একজন ৩০ আগস্ট দুপুরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। ৭ আগস্ট উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১০ জন নিহত হন। সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ইউনিক পরিবহনের ৭ যাত্রী নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই জন ও সর্বশেষ ১৩ আগস্ট ইউনিক বাসের হেলপার মারা যান। আহত হন ২৪জন। এই ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেই দায় সারে প্রশাসন। ১০ আগস্ট মহাসড়কের ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় মামুন পরিবহানের একটি যাত্রীবাহি বাস একটি প্রাইভেটকারকে চাপা দিলে প্রাইভেটকার দুমড়ে মুছড়ে যায়। এসময় প্রাইভেট কারের চালক গুরুতর আহত হন। ১৭ আগস্ট রাত ৯ টার দিকে উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় প্রাইভেটকার অ্যাম্বোলেন্স মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী শিশুসহ ৫ জন আহত হয়েছেন। ২ সেপ্টেম্বর সকাল ৭ টার দিকে মহাসড়কের তাজপুর বাজারে অজ্ঞাতনামা একটি গাড়ির ধাক্কায় আহমদ আলী নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়।
এদিকে, মহাসড়কের ৬ লেন নির্মাণ কাজ চলছে ধীর গতির কারণে এসব সমস্যার প্রতিকার মিলছে না। সমস্যা নিরসনে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়ক ও জনপথকে একাধিকবার অবহিত করলেও সড়ক ও জনপথ বিভাগ কার্যত কোন ভূমিকা নিচ্ছে না বলে জানা গেছে।
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা সিলেটভিউ-কে বলেন, ‘এটা হাইওয়ে রোড এখানে আমরা প্রশাসন কিছু করতে পারবো না। দুর্ঘটনা রোধে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে বার-বার অবহিত করা হচ্ছে।’
সওজ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী খাইরুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন সিলেটভিউ-কে বলেন, ‘যে প্রজেক্টের আওতায় ঢাকা সিলেট মহাসড়কের কাজ চলমান রয়েছে তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য। তবে, দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হলেও তাদের তেমন কোন উদ্যোগ দৃশ্যমান নেই।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম/রনিক/এসডি-১৭




