সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে 'কিন স্কুল'র ২২০ জন শিক্ষার্থীদের মাঝে ঈদবস্ত্র বিতরণ করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'কিন'।

রোববার (১৭ এপ্রিল) বেলা ২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটোরিয়ামে এ ঈদবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এসময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিনের উপদেষ্টা এবং আই.পি.ই বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মুহসিন আজিজ খান।


বিষয়টি নিশ্চিত করে কিনের সেক্রেটারি অফ ওয়েব মো. সালমান আসাদ্দু বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও সুবিধাবঞ্চিত ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মাঝে ইদের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে কিন 'ইদ আনন্দ' পালিত হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ইদবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এসব সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর অধিকাংশই শাবিপ্রবির নিকটবর্তী এলাকায় বসবাস করে। তাদের জীবনযাপন অন্যান্য স্বাভাবিক শিশুদের মতো হয় না।

কিনের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আদিবা মালিহা জানান, 'শাবিপ্রবির আশেপাশের সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের বিনামূল্যে শিক্ষাদান করে থাকে কিন স্কুল। স্কুলের শিক্ষার্থীরাও উঠে আসে বিভিন্ন অসহায় নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো থেকে। অন্যান্য বছরের ন্যায় তাদের জন্যই আমাদের এইবারের আয়োজন ''কিন ঈদ আনন্দ ২০২২'।'

কর্মসূচির সহ-আহ্বায়ক মুন্তাসির মাহমুদ তানভীর জানান, 'সকলের জন্য ইদ আনন্দের নয়, নয় সুখকর, সকলের ইদ খুশির বার্তা বয়ে আনে না। বরং কারো কারো জন্য ইদ কষ্টের, হতাশার। অন্যরা যখন ইদের নানা আয়োজনে ব্যস্ত, সবার সাথে সুন্দর সময় কাটাতে, বিভিন্ন উপহার প্রদানে ব্যস্ত; তখন এক শ্রেণির মানুষকে একবেলার খাবার জোগাড়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়।
যাদের জন্য সকল মৌলিক প্রয়োজনগুলো পূরণই বিলাসিতা; সেখানে পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্তুতির স্বাদ- আহ্লাদ মেটানো তাদের জন্য অসম্ভব কল্পনা। অথচ ইদ মূলত শিশুদের; ইদে তাদের আনন্দই থাকে বাঁধভাঙা, উচ্ছ্বাস থাকে বাঁধনহারা।'

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের ৩০ জানুয়ারি ‘আত্মার কাছে দায়বদ্ধতার হাতে রাখি হাত’ এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে যাত্রা শুরু করে ‘কিন’। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শীতবস্ত্র সংগ্রহ ও বিতরণ, রক্ত সংগ্রহ, পথ শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম প্রদানসহ দুস্থ, অসহায়, পথ শিশুদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের স্বেচ্ছাসেবীমূলক কাজ করে আসছে সংগঠনটি। কিন এর পাঁচটি উইংসের মধ্যে কিন স্কুল হল অন্যতম একটি উইং। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত দরিদ্র পরিবারের শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করে এবং বর্তমান সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য তাদের প্রস্তুত করাই কিন স্কুলের প্রধান লক্ষ্য।


সিলেটভিউ২৪ডিটকম / মাসুদ / ডি.আর