যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের আসন্ন নির্বাচনে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সিলেটের মেয়ে আমিনা আলী। লেবার পার্টির মনোনয়নে বেথনাল গ্রিন আসনের উইভার্স ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। ইতোমধ্যেই তাঁর প্রার্থিতা স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।
ব্রিটেনে জন্ম হলেও আমিনা আলীর শৈশব ও বেড়ে ওঠা সিলেটে। বৃহত্তর কামালবাজারের সন্তান হিসেবে তিনি হাজী রাশিদ আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ ও ল’ কলেজে পড়াশোনা করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন সক্রিয়, সংগঠক হিসেবে দক্ষ এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির একজন নিবেদিত সদস্য—যা তাঁকে স্থানীয়ভাবে সুপরিচিত করে তোলে।
শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতায় তিনি ইস্ট লন্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে আইন বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্রিটেন ও বাংলাদেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা তাঁর ব্যক্তিত্ব তাঁকে দিয়েছে বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি। আইনের জ্ঞান এবং সমাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা তাঁকে জনসেবামূলক কাজে আরও অনুপ্রাণিত করেছে।
রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমিনা আলী ইতোমধ্যেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বেথনাল গ্রিন ও স্টেপনি সংসদীয় আসনে লেবার পার্টির চেয়ার হিসেবে টানা তৃতীয়বার দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এই দায়িত্বে থেকে তিনি স্থানীয় কমিউনিটির অধিকার রক্ষা, বহুসাংস্কৃতিক সহাবস্থান এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে।
একজন কেইস ওয়ার্কার হিসেবে স্থানীয় এমপির সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে মানুষের বাস্তব সমস্যা বোঝার সুযোগ করে দিয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা জটিলতা ও চাহিদা সম্পর্কে তিনি গভীরভাবে অবগত। পাশাপাশি প্রায় দুই দশক ধরে মেডিকেল ইন্টারপ্রেটর হিসেবে স্থানীয় জিপিতে কাজ করার ফলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ পরিচয় তৈরি হয়েছে।
এছাড়া এইজ ইউকে-তে বেনিফিট এডভাইজার হিসেবে কাজ করে তিনি প্রবীন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সমাজসেবামূলক এই অভিজ্ঞতাগুলো তাঁকে একজন মানবিক ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তুলেছে।
আগামী ৭ মে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে তিনি লেবার পার্টির মেয়র প্রার্থী সিরাজুল ইসলামের প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একই ওয়ার্ডে প্রার্থী হয়েছেন আরেক সিলেটি বংশোদ্ভূত দিলওয়ার হোসেন। প্রায় ১৫ বছর ধরে উইভার্স ওয়ার্ডে বসবাসের সুবাদে এলাকার প্রতিটি সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তাঁর রয়েছে সুস্পষ্ট ধারণা।
বেথনাল গ্রিনের জনপ্রিয় এমপি রুশনারা আলীর সঙ্গে একই শেকড়—কামালবাজার—থাকার কারণে ভোটারদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয় ভাষায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আমিনা আলী বলেন,
“আমি এই এলাকার মানুষের সমস্যা খুব কাছ থেকে দেখেছি। তাদের সেবায় নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত করতে চাই।”
নির্বাচিত হলে তিনি এলাকার নিরাপত্তা জোরদার, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ পরিবেশ নিশ্চিত করা, আবর্জনামুক্ত এলাকা গড়ে তোলা এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ নির্মাণে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।
সব মিলিয়ে, প্রবাসের মাটিতে সিলেটের এই কন্যার প্রার্থিতা শুধু একটি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নয়, বরং বাংলাদেশি কমিউনিটির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়—উইভার্স ওয়ার্ডের ভোটাররা কতটা আস্থা রাখেন এই সম্ভাবনাময় নেতৃত্বের ওপর।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শামীম/এসডি-০৪




