ঈদুল আযহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। তবে যুক্তরাজ্যে কোরবানি সম্পন্ন হলেও কোরবানির মাংস হাতে পেতে অনেক প্রবাসী মুসলিমকে অপেক্ষা করতে হয় ঈদের দিন পেরিয়ে পরদিন পর্যন্ত। কেউ কেউ ঈদের রাতেই মাংস পেলেও অধিকাংশ কোরবানিদাতা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা মাংস সংগ্রহ করেন পরের দিন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এর প্রধান কারণ হলো যুক্তরাজ্যের কঠোর আইন, স্বাস্থ্যবিধি এবং কোরবানি সম্পন্ন করার নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া।
খোলা জায়গায় পশু জবাইয়ের সুযোগ নেই
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের মতো যুক্তরাজ্যে খোলা মাঠ, রাস্তার পাশে কিংবা বাসাবাড়িতে পশু জবাই করার অনুমতি নেই। দেশটির আইন অনুযায়ী কোরবানির পশু অবশ্যই অনুমোদিত স্লটারহাউস বা জবাইখানায় জবাই করতে হয়।
পশু কল্যাণ, খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে এই নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। ফলে ঈদের দিন বিপুল সংখ্যক পশু জবাইয়ের চাপ সামলাতে স্লটারহাউসগুলোকে বাড়তি কর্মব্যস্ততার মধ্যে কাজ করতে হয়।
স্লটারহাউস থেকে গ্রোসারি শপে
জবাইয়ের পর পশুর মাংস সরাসরি কোরবানিদাতার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় না। প্রথমে তা বিভিন্ন গ্রোসারি শপ ও মাংস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। সেখানে মাংস কাটা, পরিষ্কার করা, ওজন নির্ধারণ, প্যাকেটজাতকরণ এবং বিতরণের জন্য প্রস্তুত করা হয়।
অধিকাংশ প্রবাসী মুসলিম আগে থেকেই স্থানীয় গ্রোসারি শপের মাধ্যমে কোরবানির অর্ডার দিয়ে রাখেন। নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দোকান থেকে তাদের মাংস সংগ্রহ করতে হয়।
‘মাংস পেতে দেরি হলেও প্রক্রিয়াটি নিরাপদ’
স্থানীয় একাধিক কোরবানিদাতা জানান, ঈদের দিন মাংস হাতে না পেলেও তারা এ ব্যবস্থার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন।
একজন প্রবাসী বাংলাদেশি বলেন, “বাংলাদেশে কোরবানি শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মাংস পাওয়া যায়। কিন্তু যুক্তরাজ্যে আইনগত ও স্বাস্থ্যগত নিয়ম মেনে কাজ করতে হয় বলে কিছুটা সময় লাগে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত ও পরিচ্ছন্ন।”
আরেকজন কোরবানিদাতা বলেন, “ঈদের দিন রাতে বা পরদিন মাংস পেলেও আমরা সন্তুষ্ট। কারণ এখানে খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়।”
সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পন্ন হয় কোরবানি
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতাদের মতে, ঈদের সময় বাড়তি চাপের কারণে মাংস বিতরণে বিলম্ব হওয়া স্বাভাবিক। তবে স্লটারহাউস, গ্রোসারি শপ ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত প্রচেষ্টায় পুরো কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়।
তাদের ভাষায়, “সময় কিছুটা বেশি লাগলেও যুক্তরাজ্যের কোরবানি ব্যবস্থাপনা স্বাস্থ্যসম্মত, নিরাপদ এবং আইনসম্মত। এজন্যই অধিকাংশ মানুষ ধৈর্য ধরে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।”
সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যবিধি, আইনগত বাধ্যবাধকতা এবং বিপুল চাহিদার কারণে যুক্তরাজ্যে কোরবানির মাংস বিতরণে কিছুটা সময় লাগলেও পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হয় নিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শামীম/এসডি-১৩




