ব্রিটেনের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন ইতিহাস গড়ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণরা। ফুটবল ও বক্সিং—দুই ভিন্ন অঙ্গনে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলোচনায় উঠে এসেছেন দুই তরুণ তারকা, হামজা চৌধুরী এবং হামজা উদ্দিন । তাদের এই অর্জনে গর্বিত পুরো ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটি।
বাংলাদেশি তরুণদের খেলাধুলায় আরও সম্পৃক্ত করা এবং মূলধারার ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অনুপ্রেরণা দিতে Bengal Dragon Foundation-এর উদ্যোগে ওয়েলসের রাজধানী Cardiff-এর ঐতিহাসিক Principality Stadium-এ অনুষ্ঠিত হয় এক বিশেষ অনুপ্রেরণামূলক অনুষ্ঠান। এতে অংশ নেন ক্রীড়াঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব Leicester City F.C.-এর মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী । নিজের দীর্ঘ সংগ্রাম ও ক্যারিয়ারের নানা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং পরিবারের সমর্থন থাকলে যেকোনো স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব।
তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, “বাংলাদেশি তরুণদের মধ্যে প্রচুর প্রতিভা রয়েছে। প্রয়োজন শুধু সঠিক দিকনির্দেশনা ও আত্মবিশ্বাস। খেলাধুলা শুধু ক্যারিয়ার নয়, এটি শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও আত্মপরিচয়েরও একটি বড় মাধ্যম।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইংলিশ ফ্লাইওয়েট বক্সিং চ্যাম্পিয়ন হামজা উদ্দিন। তিনি তার বক্সিং জীবনের চ্যালেঞ্জ, কঠোর অনুশীলন এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে টিকে থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তরুণদের মধ্যে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে, তবে তাদের এগিয়ে নিতে পরিবার ও সমাজের ইতিবাচক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন Roger Rahman, যিনি স্কানথর্প ফুটবল ক্লাবের প্রথম বাংলাদেশি মালিক হিসেবে ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছেন। তিনি বলেন, খেলাধুলা তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এজন্য কমিউনিটির সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন Ana Mia। তিনি বলেন, ব্রিটেনে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি তরুণদের মাঝে আত্মবিশ্বাস তৈরি এবং মূলধারার বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্য নিয়েই এই আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন ইমরুল গাজি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাইকমিশন বার্মিংহামের ফার্স্ট সেক্রেটারি Hamida Khatun। তিনি ব্রিটেনে বাংলাদেশি তরুণদের ক্রমবর্ধমান সাফল্যের প্রশংসা করে বলেন, এসব অর্জন নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে।
পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। তরুণদের ব্যাপক উপস্থিতি এবং অতিথিদের প্রাণবন্ত বক্তব্য অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। উপস্থিত অনেকে মনে করেন, এমন আয়োজন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করবে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তরুণদের অনুপ্রাণিত করতে এবং খেলাধুলাসহ বিভিন্ন মূলধারার পেশায় সম্পৃক্ত করতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
ব্রিটেনের মাটিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণদের এই ধারাবাহিক সাফল্য এখন শুধু কমিউনিটির গর্বই নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকেও উজ্জ্বল করছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শামীম/এসডি-০৪




